ব্রণ দ্রুত দূর করার ১০টি কার্যকরী সেরা উপায়
ব্রণ প্রত্যেক টা মানুষের জন্য বিরক্তিকর ব্যাপার। ব্রণ হলে ফেস দেখতেও যেমন খারাপ লাগে তেমনি ব্রণ এর দাগ ও রয়ে যায়। সবাই চাই যে তাদের যেনো স্পটলেস বা দাগমুক্ত স্কিন থাকে।
আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন ব্রণ দ্রুত দূর করার ১০টি কার্যকরী সেরা উপায় সম্পর্কে। কিভাবে ব্রণ দুর করবেন। আরো নানা রকম বিষয়ে জানতে পারবেন। তো আজকের আর্টিকেলটিতে যাওয়া যাক।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ব্রণ দ্রুত দূর করার ১০টি কার্যকরী সেরা উপায়
- ব্রণ কেন হয়
- ব্রণ কত ধরনের হয়
- ব্রণ হলে এর সমাধান কি
- ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে ব্রণ দূর করব
- ব্রণের সমাধানে নিম পাতার ব্যবহার
- ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
- জাঙ্ক ফুড খেলে কি ব্রণ হয়
- পানি না খাওয়ার ফলে কি ব্রণ হয়
- শেষ কথা
ব্রণ কেন হয়
ব্রণ মূলত ত্বকের তেল গ্রন্থির অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ, ময়লা জমে নলকূপ বন্ধ হয়ে গেলে তার সাথে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ যোগ হয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে। আর এর পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, কিছু প্রসাধনীয় ঔষধের ব্যবহার আর অস্বাস্থ্যকর খাবার ভূমিকা রাখে ব্রণ হতে।
ব্রণ কত ধরনের হয়
ব্রণ নানা ধরনের হয়ে থাকে। আজকে আমরা জানবো ব্রণ কত প্রকার ও কি কি? ব্রণের প্রধান ধরণ গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
- কমেডোনাল ব্রণঃ কমেডোনাল ব্রণ হচ্ছে সাদা দানার মত। যাকে হোয়াইটহেডস বা ব্ল্যাকহেডস বলা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত তেল অমৃত কোষের কারণে নলকূপ বন্ধ হয়ে যায় ফলে এই ব্রণ দেখা যায়।
- ইনফ্ল্যামেটরি ব্রণঃ এই ব্রণে ছোট লাল দানা বা সাদা বা হলুদ ও পুঁজযুক্ত দানা হয়ে থাকে। ফলে ফুলে যায় এবং লালচে হয়ে যায়।
- নডিউলোসিস্টিক ব্রণঃ এই ব্রণ বেশ তীব্র। ত্বকের গভীরে বেদনাদায়, বড় পিণ্ড বা সিস্ট দেখা যায়।
- হরমোনাল ব্রণঃ হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে গাল ও চোয়ালের নিচে এ ধরনের ব্রণ হয়।
- ফাংগাল ব্রণঃ লোমকূপের ইস্টের অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে হয় এবং এগুলো ভীষণ চুলকানিযুক্ত এবং একই আকারের হয়ে থাকে।
ব্রণ হলে এর সমাধান কি
ব্রণ হলে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। চা গাছের তেল যুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনে দু'বার মুখ ধুয়ে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করুন এবং ব্রণে হাত দিবেন না বা ব্রণ খুঁটবেন না। ব্রণে হাত দিলে এর পরিবর্তে মুখে আরো ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এতে রোদ থেকে আমাদের স্কিন বাঁচাই। হরমোনের সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে ব্রণ দূর করব
ঘরোয়া উপায়ে ব্রণ দূর করার জন্য কিছু ঘরোয়া টিপস রয়েছে চলুন জেনে নেয়া যাক। চা গাছের তেল, এলোভেরা জেল, এবং দারুচিনির পেস্ট সরাসরি ব্রণে লাগিয়ে ব্যাকটেরিয়া কমানো যায়। প্রতিদিন দু বার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা। ব্রণের ওপর বরফ ঘষলে ব্রণ হালকা হতে সাহায্য করে। এবং ব্রনের ফোলা ভাব কমে।
(নিম পাতা+অ্যালোভেরা জেল+হলুদ) এগুলো উপাদান মিক্স করে মুখে লাগালে ব্রণ কমতে সাহায্য করে। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুলে ব্রণ কমতে সাহায্য করে।
উপরিউক্ত আলোচনায়, ঘরোয়া উপায়ে ব্রণ কমানোর কিছু টিপস দেওয়া হলো আপনি যদি সে টিপস মেনে চলেন তাহলে আপনার ব্রণ কিছুটা কমবে।
ব্রণের সমাধানে নিম পাতার ব্যবহার
ব্রণের সমাধানে নিম পাতা খুব কার্যকরী উপাদান। নিম পাতা আমাদের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। আজকে আমরা জানবো নিম পাতা ব্যবহার করে কিভাবে ব্রণ কমানো যায়। নিমপাতা একটি আয়ুর্বেদিক উপাদান। নিম পাতার ফলে অনেক রোগ বালাই ইত্যাদি সমস্যার সমাধান পাওয়া গেছে। নিম পাতার ব্যবহার অপরিসীম।
(নিম পাতা+অ্যালোভেরা+কাঁচা হলুদ) সবগুলো উপাদান একসাথে মিক্স করে ফেসে লাগাবেন ১৫-২০ মিনিট মুখে রাখবেন তারপর হালকাভাবে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন। নিম পাতা আমাদের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
ব্রনের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ব্রনের দাগ দূর করার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। আপনাদের সঙ্গে তবে তা আলোচনা করা হলো ঃ (বেসন+কাঁচা হলুদ+টক দই) এ উপাদানগুলি মিক্স করে ত্বকে লাগালে ব্রণের দাগ হালকা হতে সাহায্য করে। আরেকটি রেমিডি রয়েছে তা হলোঃ (চালের গুড়া+লেবুর রস+পানি) এগুলা মিক্স করে ত্বকে লাগালে ব্রনের দাগ হালকা হতে সাহায্য করে। (বেসন+হলুদ+লেবু রস+গোলাপজল) মিক্স করে ত্বকে লাগালে ব্রণের দাগ কিছুটা হালকা হয়।
উপরিউক্ত যেগুলো রেমিডিস দিলাম সেগুলো খুব কার্যকরী উপাদান। এগুলো ব্যবহার করার ফলে ব্রণের তার কিছুটা হালকা হবে। পুরোপুরি যাবে না তবে হালকা হবে।
জাঙ্ক ফুড খেলে কি ব্রণ হয়
জাঙ্ক ফুড খেলে কি ব্রণ হয় এটা সবাই জানতে চাই। হ্যাঁ, জাঙ্ক ফুড খাবার ফলে ত্বকে ব্রণ দেখা যায়। জাঙ্ক ফুডে অতিরিক্ত তেল, চিনি, ফ্যাট ইত্যাদি থাকে। এগুলোর ফলে ব্রণের মতো সমস্যা হয়। জাঙ্ক ফুড খাবার থেকে সব সময় দূরে থাকা ভালো। বেশি বেশি শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি খাওয়া উচিত।
পানি না খাওয়ার ফলে কি ব্রণ হয়
পানি না খাওয়ার ফলে ব্রণ দেখা যায়। পানি আমাদের শরীর কে হাইড্রেট রাখে। পানি খাওয়ার ফলে আমাদের ত্বক ভালো থাকে এবং গ্লো করে। যারা প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করে থাকে তাদের সাধারণত ব্রণের সমস্যা হয় না। যারা প্রতিদিন ভালো মতো পানি পান করেনা তাদের ব্রণের মত সমস্যা দেখা দেয়। আপনারা প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করবেন তাহলে দেখবেন আপনাদেরও ব্রণের সমস্যা দুর হবে।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url