দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম

> সুন্দর জীবন যাপনের জন্য এবং পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য পড়ার রুটিন বানানো প্রয়োজন। দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে আপনি ভবিষ্যতে অনেক কিছু করতে পারেন। একটা মাত্র রুটিন আমাদের জীবন বদলে ফেলে। 

তাহলে চলুন আমরা জেনে নিই কিভাবে রুটিন বানাবো। শুধু পড়াশুনা রুটিন বানালে চলবে না। তার পাশাপাশি আমাদেরকে আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় ছোটখাটো জিনিসের উপর রুটিন বানাতে হবে। তাই আমি শুধু আপনাদের পড়াশোনার উপর রুটিন বানাবো না তার পাশাপাশি খাওয়া দাওয়া, ঘুমানো, ইত্যাদি বিষয়ে রুটিন থাকবে। আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম

সময় মতো পুরো বই শেষ করার জন্য পড়ার রুটিন বানানো প্রয়োজন। রুটিন অনুযায়ী পড়াশোনা করলে পড়া টাইম মতো শেষ হয় এবং পরীক্ষায় রেজাল্ট ও ভালো হয়। তাই ই পড়ার জন্য রুটিন বানানো অবশ্য। তো জেনে নেয়া যাক কিভাবে রুটিন বানাবো। 

  1. সকালের রুটিন ঃ (৭:০০-৪:৩০) এই সময় আপনার যেগুলো কঠিন সাবজেক্ট রয়েছে সেগুলা পড়বেন। কারণ এই সময়ের পড়া গুলো বেশি মনে থাকে। তাই চেষ্টা করবেন এই সময়ের মধ্যে কঠিন সাবজেক্ট গুলা পড়ার। 
  2. তারপর কিছুক্ষণ রেস্ট নেবেন। তারপর যদি স্কুল, কলেজ থাকে তাহলে রেডি হয়ে সেখানে চলে যাবেন। প্রতিদিন স্কুল-কলেজ করবেন এতে করে ক্লাসে যা পড়াচ্ছে তা নোট করবেন। নোটগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়বেন তাহলে আপনার সেগুলো পড়া গুলো বেশি মনে থাকবে। 
  3. দুপুরের রুটিনঃ (১:০০-২:০০) এই সময় হচ্ছে খাওয়ার তাই। এ সময়ের মধ্যে আপনি আপনার খাওয়া কমপ্লিট করে নেবেন। তারপর কিছুক্ষণ রেস্ট নেবেন। দুপুরের টাইমটা আমার মনে হয় রেস্টের জন্য বেস্ট টাইম। এই সময় পড়াশোনা না করে বিশ্রাম করা উচিত। 
  4. বিকালের রুটিন ঃ (৪:০০-৫:৩০) আপনি চাইলে এই সময়টা খেলাধুলা করতে পারেন বা ঘোরাঘুরি করতে পারেন। বিকালে খেলাধুলা করার বেস্ট টাইম। চাইলে পড়াশোনা করতে পারেন। 
  5. রাতের রুটিন ঃ (৬:০০-১০:০০) এই সময় আপনি আপনার পড়াশোনা করবেন। আপনার বাকি যেগুলো বিষয় রয়েছে সেগুলো পড়ার জন্য এই সময়টা যথেষ্ট। এর মাঝে (৮:০০-৯:০০) এ সময়ের মধ্যে আপনি আপনার রাতের খাবার শেষ করে ফেলবেন। 

উপরিউক্ত আলোচনা আমি আপনাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট রুটিন বানিয়ে দিলাম। এই রুটিন আপনি ফলো করলে আপনারও রেজাল্ট ভালো হবে। 

রুটিন অনুযায়ী পড়লে পড়া ভালো হয় কেন 

রুটিন অনুযায়ী পড়লে পড়া ভালো হয়। কারণ রুটিন এমন একটি নির্দিষ্ট সময় যা মেনে চললে আমরা আমাদের সময় মতো পড়া শেষ করতে পারি এবং পরীক্ষার আগে ভালো প্রিপারেশন নিতে পারি। রুটিন আমাদের নির্দিষ্ট সময় মনে করিয়ে দেয়। এবং তা সময় মতো শেষ করতে আমাদের সাহায্য করে। তাই আমি মনে করি রুটিন অনুযায়ী পড়লে পড়া ভালো হয়। তা দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করে।

দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়া কেন প্রয়োজন 

দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়লে আমাদের পড়া যথা সময়ে শেষ হবে। আর এই ৮ ঘন্টা সময়ে আমরা আমাদের সব বিষয়গুলো পড়ে শেষ করতে পারবো। আর এক জন ভালো শিক্ষার্থী সব সময় ৮ ঘন্টা সময় ব্যয় করে পড়াশুনাতে। তাই দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়াশোনা করার প্রয়োজন। 

পড়ার নোট কিভাবে বানায়

অনেকেই আছে যারা পড়ার নোট বানাতে পারে না। বা কিভাবে নোট বানাতে হয় তার সঠিক নিয়ম জানে না। আমি আপনাদের কিছু নিয়ম বলছি যাতে আপনারা পড়ার নোট বানাতে পারেন। পড়ার নোট বানানোর জন্য আগে আপনাকে পড়তে হবে ভালো মতো। তারপর আপনার যেটা মনে হবে যে এটা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তখন আপনি সেই পড়া টি একটি খাতায় লিখবেন। এতে করে আপনার পরে মনে থাকবে যে এই বিষয়টি আপনার জন্য অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, কলেজে যখন শিক্ষক ক্লাসে কোনো বিষয় নিয়ে বলবে তখন টা সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখে ফেলা। এভাবে আপনি যদি খাতায় পড়া নোট করে রাখেন তাহলে পরীক্ষার আগে আপনার পড়া সহজ হবে। 

রুটিন কি আমাদের জীবন বদলে ফেলে

অনেকেরই প্রশ্ন যে রুটিন কি আমাদের জীবন বদলে ফেলে? উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। একটি রুটিন আমাদের জীবন বদলাতে অনেকটা সাহায্য করে। কারণ আমরা যখন একটি রুটিন অনুযায়ী আমাদের জীবন যাপন পরিচালনা করি তখন তা নির্দিষ্ট সময় মতো কাজ করা, জীবনকে উপভোগ করার একটি সময় তা মেনে চলে। আজ বিশ্বে যারা যারা জীবনে সফল হয়েছে তারা নিজেদের রুটিন মেনে চলার কারণেই সফল হয়েছেন। আমরাও জীবনে সফল হতে চাইলে রুটিন ফলো করতে পারি। একটি মাত্র রুটিন আমাদের জীবনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তাই, রুটিন আমাদের জীবন বদলাতে সাহায্য করে।

কোন বিষয় কখন পড়া উচিৎ

কোন বিষয় কখন পড়া উচিৎ সেই নিয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক ভেবে থাকে। তো চলুন জেনে নিই কোন বিষয় কখন পড়া উচিৎ। আমার কাছে সব থেকে ভালো মনে হয় যে যেটা কঠিন বিষয় সেটা সকালে পড়া উচিৎ। কারণ দেখেন সকাল সকাল রাস্তার চিৎকার চেঁচামেচি অত টাও পাওয়া যায় না। কিন্তু বেলা হয়ে গেলে অনেক আওয়াজ হয়। তাই সকাল সকাল কঠিন বিষয় গুলো পড়া উচিৎ। 

যেগুলা বাকি বিষয় গুলো রয়েছে সেগুলা সন্ধ্যা বেলায় বা রাত্রে পড়লে ভালো হয়। এতে করে সব পড়ার সময় ফিক্স হয়ে যায় এবং সময় মতো পড়া শেষ করা যায়।

খাওয়া দাওয়ার ওপর রুটিন

পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের শরীর সুস্থ রাখা টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই যথাসময়ে খাবার খাওয়া দরকার। বেশি বেশি পানি পান করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। শাক সবজি, ফলমূল, আমিষ প্রতিদিন গ্রহণ করা উচিত। আমাদের শরীর সুস্থ থাকলে পড়ায় মন বসে। তাই খাওয়া দাওয়ার ওপর রুটিন থাকা প্রয়োজন।

পড়াশোনা কেনো প্রয়োজন 

অনেক শিক্ষার্থীরা জানতে চাই যে পড়াশোনা কেনো প্রয়োজন? তো আমি আপনাদের বলব পড়াশোনা কেনো প্রয়োজন। পড়াশোনা ছাড়া জীবনকে চালানো সহজ নয়। জীবনে সফল হওয়ার জন্য বা জীবনে বড় কিছু হওয়ার জন্য পড়াশোনা প্রয়োজন। আমরা নিজের ক্যারিয়ার এর জন্য পড়াশোনা করবো। 

শেষ কথা

উপরিউক্ত আলোচনায় দৈনিক ৮ ঘণ্টা পড়ার রুটিন বানানো নিয়ম এবং তার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের ওপর ও আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Tasniha Akter Tanisha
Tasniha Akter Tanisha
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।