পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ৫টি কার্যকরী ও পরীক্ষিত উপায়

আমরা আমাদের স্কুল কলেজের পরীক্ষাগুলো কে মাথাভর্তি টেনশন মনে করি।পরীক্ষা নামটা শুনলেই  আমরা অনেক চিন্তায় পড়ে যায়। কিভাবে পড়াশুনা করব, কিভাবে ভালো রেজাল্ট করব।

আজ আপনাদের সকল শিক্ষার্থীদের কে আমি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ৫টি কার্যকরী ও পরীক্ষিত উপায় বলব। আজকের এই কন্টেন্ট টি পড়ার পর আপনাদের পড়াশোনায় মন বসবে এবং পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট ও করতে পারবেন। তো আজকের এই আর্টিকেল টি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। তাহলে চলুন উপায় গুলো জেনে নেওয়া যাক।

পোস্ট সূচিপত্রঃ পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ৫টি কার্যকরী ও পরীক্ষিত উপায় 

পড়াশুনার জন্য বেস্ট রুটিন

পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো করার জন্য আমাদের কে আগে একটা পড়াশুনার রুটিন বানাতে হবে। সেই রুটিন অনুযায়ী পড়াশুনা করলে আমরা খুব সহজে রেজাল্ট ভালো করতে পারব। শুধু পড়াশুনার রুটিন ফলো করলেই চলবে না তার সাথে খাওয়া দাওয়া, রেস্ট টাইম, খেলাধুলা ইত্যাদির জন্য ও রুটিন করা প্রয়োজন। সকাল, দুপুর, রাত এই ৩ বেলার রুটিন যদি ফলো করে চলা যায় তাহলে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট নিশ্চিত। আমি আপনাদের ৩ বেলার রুটিন সুন্দর করে বানিয়ে দিবো। তো চলুন সকাল, দুপুর, রাত এই ৩ বেলার পড়াশুনার রুটিন দেখে নেওয়া যাক। 

  1. সকালঃ (৬:০০-৭:০০) এই ১ঘণ্টা পড়াশুনা করে আপনি ১৫-২০ মিনিটের জন্য রেস্ট নিবেন। এই সকাল সময় যেগুলো কঠিন সাবজেক্ট সেগুলো পড়বেন।
  2. (৭:৩০-৪:০০) এর মধ্যে আপনি আপনার ব্রেকফাস্ট কমপ্লিট করে নিবেন। 
  3. তারপর আপনার যদি স্কুল, কলেজ থাকে তাহলে আপনি তা অ্যাটেন্ড করুন। 
  4. দুপুরঃ স্কুল, কলেজ থেকে এসে গোসল করে আপনি আপনার দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। (১:৩০-২:০০)। এরমধ্যে চেষ্টা করবেন খাবার খাওয়ার।
  5. বিকালঃ তারপর কিছুক্ষণ রেস্ট করে পড়তে বসবেন। (৪:০০-৫:০০) এই সময় আপনি আপনার বাকি সাবজেক্ট গুলো পড়বেন। পড়ার মাঝখানে চেষ্টা করবেন ১০-১৫ মিনিট গ্যাপ দেওয়ার। এতে করে আপনার মাইন্ড ফ্রেশ থাকবে। এবং পড়াশোনাতে আরো মনোযোগ বসবে। 
  6. বিকেলের পড়াশোনার পর চেষ্টা করবেন একটু খেলাধুলা করার। খেলাধুলা করলে মন ভালো থাকে মাইন্ড ফ্রেশ থাকে। এতে করে কোন রকমের চাপ শরীরে কাজ করে না। তাই বিকাল টাইম খেলাধুলা একটু ঘুরাঘুরি করবেন। সুস্থ থাকার জন্য খেলাধুলো বা একটু ঘোরাঘুরি করা উচিত। 
  7. রাতঃ (৭:০০-১০:০০) এই সময় আপনি আপনার সব সাবজেক্ট মনোযোগ দিয়ে পরবেন। সাথে ২০-৩০ মিনিট  রেস্ট করবেন। তাহলে পড়ার অত চাপ লাগবে না। 
  8. রাতের খাবার (৪:০০-৯:০০) এই সময়ের মধ্যে খেয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন। এতে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে আর রাতের ঘুম ভালো হবে।

এই ছিল সকাল, দুপুর, রাত এই ৩ বেলার পড়াশোনার রুটিন। এই রুটিন ফলো করলে আপনি খুব সহজে ভালো রেজাল্ট করতে সক্ষম হবে। তার পাশাপাশি একজন ভালো স্টুডেন্ট হয়ে উঠবেন।

কোন সময় পড়লে ভালো হয় 

অনেকেই থাকে যারা পড়ার নির্দিষ্ট সময় খুঁজে পায় না। আমি আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে সকলের পড়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও মনে থাকে। সকালবেলা রাস্তাঘাটে চিল্লাচিল্লি আওয়াজ খুব কম থাকে। ‌ এই সকালবেলা সবকিছু নীরব হয়ে থাকে যার কারণে পড়াতে মন বসে ভালো। সকাল বেলা যেগুলো কঠিন সাবজেক্ট সেগুলো পড়বেন। কঠিন সাবজেক্ট হলো সকাল বেলাতে পড়ার ফলে তাড়াতাড়ি অধ্যায়গুলো শেষ হয় এবং মনে রাখতে সুবিধা হয়। আপনারা চাইলে সকাল সকাল পড়তে পারেন। 

আবার আপনি যদি চান যে আপনার সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙ্গে না। সে অনুযায়ী আপনি রাত ১১টার পর পড়তে পারেন। কারণ রাত ১১টার পর অনেকেই ঘুমিয়ে পড়ে এবং সবকিছু নীরব থাকে। আপনি সেই সময় পড়তে পারেন। অনেকের রাত দুইটা-তিনটা পর্যন্ত পড়াশোনা করে। আপনি চাইলে তাও করতে পারেন। আমি আপনাকে দুইটি সময় বললাম। এই দুইটি সময়ের মধ্যে যে কোন একটি সময় পরলে খুব ভালো হয়।

পরীক্ষায় কিভাবে লিখলে ভালো নম্বর উঠে

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য লেখাতে খুব বেশি আগ্রহী হতে হবে। লেখা যদি স্লো থাকে বা আপনার লেখা খারাপ থাকে তাহলে পরীক্ষার খাতায় নম্বর ওতো ভালো আসবে না। শিক্ষকরা সবসময় হাতের লেখা দেখে। আপনার হাতের লেখা যদি স্পষ্ট হয় তাহলে খুব ভালো। ভালো রেজাল্ট করতে আপনাকে সহায়তা করবে আপনার হাতের লেখা। হাতের লেখা সব সময় দ্রুত করবেন। দ্রুত লেখার ফলে আপনি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন সঠিক সময়ের মধ্যে। 

আপনারা পরীক্ষায় সব সময় প্রশ্ন, উদ্দীপক ভালো করে পড়ে নেবেন তারপর সেটার আনসার লিখবেন। কোন প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার না জানা থাকে তাহলে সেটার পেছনে সময় নষ্ট করবেন না অন্য প্রশ্নের দিকে এগোবেন। এতে করে আপনার সময় নষ্ট হবে না। যেগুলো প্রশ্ন আপনি পারেননি সেগুলো শেষ মুহূর্তে করার চেষ্টা করবেন। 

সৃজনশীল প্রশ্নে ক,খ,গ,ঘ থাকে (ক আর খ) প্রশ্ন সব সময় মুখস্থ রাখা উচিত। কারণ ক আর খ কখনো বানিয়ে লেখা যায় না। (গ আর ঘ) সব সময় বুঝে করার চেষ্টা করবেন। উদ্দীপকে যা আছে সে অনুযায়ী গ এবং ঘ মিল থাকে। এই দুইটি ভালো মতো লিখবেন। গ সব সময় ১.৫ পেজ লিখবেন। আর ঘ ২ পেজ লিখবেন। তাহলে মার্ক ভালো পাবেন। 

উপরিউক্ত উপায় গুলো আপনি যদি মেনে চলেন তাহলে আপনার পরীক্ষার খাতায় ভালো মার্ক উঠবে। 

রেজাল্ট ভালো করার জন্য খাবারের দিকে নজর

পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো করার জন্য খাবারের দিকে নজর দাওয়া আবশ্যক। কারণ পেট ভরে খাবার না খেলে শরীর দূর্বল হয়ে যাবে এবং দুর্বল শরীর থাকলে পড়াশোনায় মন বসবে না। তাই সব সময় খাবারের দিকে নজর রাখা উচিত। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে সব সময়। 

পানি বেশি করে খাবেন। পানি আমাদের শরীর কে হাইড্রেড্ রাখে। তাই বেশি বেশি পানি খাবেন। প্রচুর শাক সবজি খাবেন। শাক সবজি আমাদের ত্বক, চুল, শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলমূল খাবেন বেশি করে। ফল আমাদের শরীর কে শক্তিশালী করে তোলে। মাছ, মাংস, ডিম আমিষ জাতীয় খাবার এবং শর্করা জাতীয় খাবার খাবেন। 

শরীর সুস্থ থাকলে আপনার পড়াশোনায় ভালো মন বসবে। আর রেজাল্ট ভালো করতে পারবেন।  তাই সব সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।

শেষ কথা

উপরিউক্ত আলোচনায় আমি আপনাদের পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ৫টি কার্যকরী ও পরীক্ষিত উপায় গুলো বললাম। 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Tasniha Akter Tanisha
Tasniha Akter Tanisha
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।