মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করার উপায়

 মাসে ২০ হাজার বা তার অধিক ইনকাম করতে চান তাহলে আপনি সঠিক আর্টিকেলটি পড়ছেন। বর্তমানে সবাই চাই আয় রোজগার করতে। কিন্তু কিভাবে ইনকাম শুরু করবেন তা আপনারা বুঝতে পারছেন না। 
আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব যে কিভাবে আপনারা মাসে ২০ হাজার টাকা বা তার অধিক আয় করবেন। তো চলুন সেই সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। 

পেজ সূচিপত্রঃ মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করার উপায় 

অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে আয়

অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে কিভাবে ইনকাম করবেন তাইতো? তো আজকে আমি আপনাদের জানাবো কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করবেন। এখন প্রায় বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে কাজ করে ইনকাম করছে। 

অনলাইনে অনেক সাইট রয়েছে যেমনঃ ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ফ্রিল্যান্সিং, ফাইবার, ওয়েবসাইট ইত্যাদি। এগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এ কাজ করে মানুষ লক্ষাধিক টাকা আয় করছে।

অনলাইনের মাধ্যমে ওয়েবসাইট লিখা লিখি করে মানুষ আয় করতে সক্ষম হচ্ছে। ফেসবুকে কন্টেন্ট বানিয়ে পোস্ট করার মাধ্যমে ইনকাম হচ্ছে। ইউটিউবে ভিডিও বা শর্ট ভিডিও বানিয়ে টাকা ইনকাম করছে। ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে আয় করছে ইত্যাদি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুলো এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।অনলাইনের মাধ্যমে এখন অনেক বেকারত্ব দুর হচ্ছে এবং মানুষ বিভিন্ন ছোট বড় কাজ পাচ্ছে। অনলাইনে কাজ করে মানুষ সময় এবং শারীরিক পরিশ্রম দুইটাই বাচাচ্ছে। অনলাইনে কাজ করার মাধ্যমে এখন মানুষকে বাইরে গিয়ে কাজ খোঁজার চেষ্টা করতে হচ্ছে না। তাই, অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে মাসে ২০ হাজার বা তার অধিক ইনকাম করা সম্ভব।

ফ্রীলান্সিং করে মাসে টাকা আয় 

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে টাকা আয় করতে চান? তাহলে চলুন আগে জেনে নেওয়া যাক ফ্রিল্যান্সিং জিনিসটা কি। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি পেশা। ফ্রিল্যান্সিং কে মুক্ত পেশা ও বলা হয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং মানুষ বাড়িতে বসে থেকে নিজের সময় মতো কাজ করতে পারে বলে একে মুক্ত পেশা বলে। তো ফ্রিল্যান্সিং করে আমরা কিভাবে আয় করবো?

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করে মানুষ প্রায় অনেক টাকা আয় করতে সক্ষম হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে প্রয়োজন ধৈর্য। ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন সেক্টর রয়েছে যেমনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি।

ডিজিটাল মার্কেটিং করতে গেলে প্রায় খানিকটা সময় দরকার হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং, SEO ইত্যাদি। এসব মার্কেটিং করে আপনারা মাসে প্রায় অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

গ্রাফিক ডিজাইন এর জন্য আপনাকে বিভিন্ন টুলস এর কাজ জানতে হবে। গ্রাফিক ডিজাইন করার মাধ্যমে ও মাসে অনেক টাকা আয় করা যায়। ভিডিও এডিটিং এর কাজ করে আমরা মাসে আয় করতে পারব। অনেকেই তার প্রজেক্ট ফেসবুক, ইউটিউবের জন্য ভিডিও এডিট করাই তখন তার মাধ্যমে ইনকাম হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করা এখন খুব সহজতর হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে রয়েছে খুবই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম যেমনঃ ফেসবুক মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং ইত্যাদি।

ফেসবুক মার্কেটিং করে এখন মানুষ প্রায় অনেক টাকা ইনকাম করছে। ফেইসবুকে পেজ, গ্রুপ, কন্টেন্ট পোস্ট করার মাধ্যমে মনিটাইজেশন চালু হয়ে গেলে ইনকাম এর ব্যবস্থা শুরু হয়ে যায়।

ইউটিউবে ও ওই একই নিয়ম। রেগুলার শর্ট, ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে মনিটাইজেশন চালু হলেই ইনকাম শুরু হয়ে যায়। ইউটিউবে প্রাজ কোটি কোটি মানুষ ভিডিও দেখে থাকে। তাই এমন টাইপের ভিডিও বানানো উচিত যেই ভিডিও দেখতে মানুষ পছন্দ করে।

ফেসবুক মার্কেটিং করে মাসে আয় 

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুক আমাদের দৈন্দনিন্দ জীবনে প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ করার পাশাপাশি টাকা ইনকাম এর ও সুযোগ রয়েছে।

ফেসবুক প্রায় কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করে থাকে। আর তার মধ্য লক্ষাধিক বা তার বেশি মানুষ ফেসবুক এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করছে। ফেসবুক এ পেজ খুলে সেই পেজে রেগুলার পোস্ট করলে সেখান থেকে ইনকাম হয়। আবার ফেসবুকে গ্রুপ খুলার পর সেই গ্রুপ এ বেশি মানুষ থাকলে এবং প্রতিদিন পোস্ট করার মাধ্যমে ইনকাম হয়।

ফেসবুকে কন্টেন্ট বানিয়ে পোস্ট করার মাধ্যমে ও ইনকাম করা সম্ভব। ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম এ রেগুলার পোস্ট থাকতে হবে এবং একটিভিটি রাখতে হবে।তাহলে মনিটাইজেশন চালু হয়ে গেলেই ইনকাম এর ব্যবস্থা শুরু হয়ে যাবে।

ফেইসবুকে নিজের প্রোডাক্ট এর সেল করে বা অন্যের প্রোডাক্ট সেল এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। নিজের ভিডিও এড সিস্টেম করলে আপনি এর মাধ্যমে ও ইনকাম করতে পারবেন।

ইউটিউব মার্কেটিং করে মাসে আয়

আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব। ইউটিউবে কোটি কোটি মানুষ এক্টিভ থাকে। তার মধ্যে অনেক মানুষ ইউটিউব থেকে ইনকাম করছে। ইউটিউবে ও মনিটাইজেশন সিস্টেম থাকে। রেগুলার ভিডিও, শর্ট ভিডিও পোস্ট করতে হয়। 

রেগুলার একটিভিটি দেখালে মনিটাইজেশন চালু হয়ে যাবে এবং ইনকাম শুরু হবে। ইউটিউবে এমন ভিডিও আপলোড করতে হবে যেই ভিডিও পাবলিক দেখতে পছন্দ করে। ট্রেডিং এর সাথে সাথে ভিডিও গুলো পোস্ট করতে হবে।

ইউটিউবে নিজের প্রোডাক্ট সেল করে বা অন্যের প্রোডাক্ট এর রিভিউ দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন। ইউটিউব আপনার ভিডিও তে এড সিস্টেম করে ও ইনকাম করতে পারবেন। 

অনলাইনে টিউশন করিয়ে আয়  

অনলাইনে টিউশন করিয়ে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করার উপায় জেনে নেওয়া যাক। এখন বর্তমানে অনলাইনে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে থাকে। অনেক স্টুডেন্ট আছে যারা বাড়িতে বসে থেকে পড়তে চাই বাইরে না গিয়ে। তারা খুব সহজেই অনলাইনে শিক্ষক দের কাছে পড়তে পারবে।

অনলাইনে টিউশন করিয়ে অনেক টাকায় আয় করা সম্ভব। ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট এর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন অ্যাপ এর মাধ্যমে ক্লাস করা যায়।

অনলাইনে পেইড ফি দিয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবে এবং অনলাইনের মাধ্যমে প্র্যাকটিস শিট বা এক্সাম দিতে পারবে। অনলাইনে টিউশন এখন খুব জনপ্রিয়। 

অনলাইনে টিউশন করিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। যেই সাবজেক্ট গুলো স্টুডেন্ট দের বেশি বুঝার প্রয়োজন সেগুলা সাবজেক্ট অনলাইনে পড়ানোর মাধ্যমে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব।

কন্টেন্ট তৈরি করে মাসে আয়

কন্টেন্ট তৈরি করে এখন ইনকাম করা খুব সহজ। কন্টেন্ট তৈরি করে মানুষ প্রায় অনেক টাকা আয় করতে সক্ষম হচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউব এ কন্টেন্ট বানিয়ে ছাড়লে প্রায় অনেক টাকা আয় সম্ভব।

কন্টেন্ট তৈরি করার জন্য আমাদের আগে নিস বেছে নিতে হবে এবং কোন ধরনের পোস্ট করব সেটা সিলেক্ট করতে হবে। মানুষ যেসব কন্টেন্ট বেশি পছন্দ করে সেসব কন্টেন্ট রেগুলার পোস্ট করতে হবে।

ফেসবুকে প্রতিদিন ভালো মানের কন্টেন্ট পোস্ট করলে মনিটাইজেশন চালু হয়ে গেলে ইনকাম এর ব্যবস্থা শুরু হয়ে যায়। ইউটিউবে ও প্রতিদিন ভালো মানের ভিডিও শর্ট ভিডিও আপলোড করলে মনিটাইজেশন অন হয়ে গেলেই আয় শুরু হয়ে যাবে। 

কন্টেন্ট তৈরি করতে প্রয়োজন প্রতিভা। ভালো মানের কন্টেন্ট যেগুলো পাবলিক দেখতে পছন্দ করে সেগুলো কন্টেন্ট প্রতিনিয়ত আপলোড করতে হবে টাইম মতো।

ফাইভার অ্যাপ থেকে আয়

ফাইবার হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর একটি কাজ। ফ্রিল্যান্সিং শেখার পর ছোট বড় কাজ পাওয়ার জন্য মানুষ ফাইবার অ্যাপ ব্যবহার করে থাকে। ফাইবার অ্যাপে ছোট থেকে বড় অনেক কাজ পাওয়া যায়। 

ডিজিটাল মার্কেটিং বা গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য ফাইবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ। ফাইবারে অনেক কাজ থাকে এবং সেখান থেকে অনেক টাকা আয় করা যায়। 

ফাইবার একটি অনেক জনপ্রিয় একটি অ্যাপস। এই অ্যাপ ব্যবহার করে অনেক মানুষ টাকা ইনকাম করতে সক্ষম হয়েছে, এবং প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করেছে মাসে।

ফাইবার অ্যাপ একাউন্ট খুলে যেখানে নিজের প্রতিভা দেখিয়ে কাজ পাওয়া যাবে এবং সে কাছ থেকেই অনেক টাকায় ইনকাম সম্ভব হবে। 

অফলাইনের মাধ্যমে আয়

অফলাইনের মাধ্যমে নানাভাবে আয় করা যায়। তার মধ্যে হলো টিউশন করিয়ে আয়। একটি কোচিং খুললে বা প্রাইভেট সেন্টার খুলে সেখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলে একটি আয় এর ব্যবস্থা শুরু হয়ে যাবে। 

বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ালেও মাসে প্রায় অনেক টাকায় আয় হবে। শুধু প্রয়োজন পড়ানোর জন্য ভালো প্রতিভা। আরো অনেক ভাবেই ইনকাম করা সম্ভব। 

কোনো দোকানে বা ভালো শোরুমে চাকরি করলে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব। যেমন জামা কাপড়ের দোকানে থাকলে বা মোবাইলের দোকানে থাকলে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করা যায়।

খাবার বিক্রি করে যেমন স্ট্রিট খাবার বা ভালো রেস্টুরেন্টে কাজ করলে ২০ হাজার টাকা উঠে যাবে। অফলাইন আর নানাভাবে আয় করা সম্ভব শুধু প্রয়োজন ধৈর্য্য এবং সময়।

শেষ কথা  

উপরোক্ত মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করার উপায় সম্পর্কে যেগুলো বললাম ওগুলো যদি আপনারা মেনে চলেন তাহলে আপনারাও মাসে প্রায় বিশ হাজার টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন।

ইনকাম করতে হলে পরিশ্রম প্রয়োজন হবেই। ধৈর্য এবং সময় এ দুটোও অনেক প্রয়োজন ইনকাম করতে। পরিশ্রম করলে মাসে ২০ হাজার বা তার বেশি আয় করা সম্ভব। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Tasniha Akter Tanisha
Tasniha Akter Tanisha
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।