ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
বর্তমান যুগে ব্রণ একটি খুবই বড় সমস্যা। কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে বড় দের মাঝে ও ব্রণ এর সমস্যা দেখা দেয়। অনেক কারণে যেমন তৈলাক্ত ত্বকের জন্য, হরমোন এর পরির্বতন এর কারণে, মানসিক চাপ এর কারণে, হেলদি জীবন যাপন না করার কারণে এবং ভুল স্কিন কেয়ার এর কারণে ব্রণ বেড়ে যায়। তাই ই নয় বরং ব্রণ চলে যাওয়ার পর তার দাগ ও রয়ে যায় পরে সে টা গর্তের মতো হয়ে যায় আর দাগ হয়ে যায়। ব্রণ ও ব্রণের দাগ এর সমাধানের আগে আমাদের জানতে হবে ব্রণ কেন হয়। ব্রণ হয় নানা কারণে যেমন অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার কারণে আবার বয়সন্ধিকালের জন্য হরমোনাল ব্যালেন্স এর জন্য কিন্তু ব্রণ হয়ে থাকে। বাইরের ধুলা বালি যখন আমাদের ত্বক ও লাগে তখন ও ব্রণ বের হয়। তাই বাইরে থেকে এসে আমাদের ভালো ভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
এমন অনেকে আছে যারা ব্রণ দূর করার জন্য নানা ধরনের কেমিক্যাল যুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করে। কিন্তু এগুলা ত্বকের ব্রণ কমানোর বদলে আর ও বাড়িয়ে দেই। তাই যত সম্ভব ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক সমাধানে মুখের ব্রণ দূর করতে হবে। ঘরোয়া উপায় অনেক সহজলভ্য এবং কম খরচের মধ্যে হয়ে যায়। ব্রণ এর কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। মুখে ব্রণ বের হলে তা ব্যথা দায়ক হয় এবং দেখতে ও অসহ্য লাগে। অনেকের মুখে ব্রণ বের হলে তারা তো বাইরেই বের হতে চাইনা। তো ব্রণ এর সমস্যার সমাধান তো আমাদের চাই ই চাই। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা বিস্তারিত জানবো কিভাবে ব্রণ ও ব্রনের সমাধান পাওয়া যায় এবং কীভাবে সুন্দর ভাবে হেলদি জীবন যাপন পরিচালনা করা যায়। ব্রণ এর সমস্যা চিরস্থায়ী নয়। একদিন না একদিন ঠিকই এই ব্রণ ঠিক হয়ে যাবে। ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ব্রণ কি এবং কেনো হয়
ব্রণ কয় প্রকার ও কি কি
ব্রণের সমাধান এর জন্য কি করা উচিত
ব্রণ কি আদে ও চিরতরে দূর হয়
ব্রণের সমাধানে ঘরোয়া উপায়
ব্রণের দাগ কিভাবে দূর করব
শারীরিক মানসিক চাপের কারণে কি ব্রণ হয়
হাতের নখ বড় রাখলে কি ব্রণ হয়
ব্রণের চিকিৎসায় ঘরোয়া টোটকা
ব্রণ কমানোর জন্য কি কি খাওয়া উচিত
শেষ কথা
ব্রণ কি এবং কেনো হয়
মুখে যখন অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় তখন ত্বকে ব্রণ তৈরি হয়। ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব মৃত চামড়ার কারণে লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায় আর তখন ব্রণের সৃষ্টি হয়।
অনেক সময় বয়ঃসন্ধিকালের জন্য ত্বকে ব্রণ দেখা যায় আবার অনেক সময় হরমোনের পরিবর্তন এর জন্য ও ব্রণ এর সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মানসিক, শারীরিক চাপ নেওয়ার কারণের ও ব্রণ হয়। বাইরের ধুলা বালি যখন মুখে আসে পরে তখন ও আমাদের ব্রণ এর সমস্যা দেখা দেয়। তাই যখনই বাইরে থেকে আসবো তখনই সাথে সাথে মুখ ভালো মতো পরিষ্কার করে নিতে হবে।
আবার অনেকে স্কিন টাইপ না বুঝে বাজার থেকে যেমন তেমন প্রোডাক্ট কিনে ত্বকে ব্যবহার করে যার কারণেও ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়। আবার বেশি তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার ফলে আমাদের মুখে ব্রণ উঠে আসে। তৈলাক্ত খাবার আমাদের শরীরের জন্য ভালো না। আমাদের পেট যখন খারাপ থাকবে লিভারে সমস্যা থাকবে তখন ই আমাদের মুখে ব্রণ এর সমস্যা দেখা দিবে। টিনেজার বয়সে অনেকের ই ব্রণ এর মতো সমস্যা দেখা দেয় এটা নরমাল বয়সের সাথে সাথে অনেকের ঠিক ও হয়ে যায়।
অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহার করার কারণে মুখে ব্রণ উঠে আসে। কারণ মেকআপ এর মধ্যে অনেক কেমিক্যাল অ্যাড থাকে যার কারণে মেকআপ আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। মানসিক চাপের কারণে ও ব্রণ হয়। অতিরিক্ত স্ট্রেস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এবং মুখে ব্রণ উঠে আসে। খাদ্যাভ্যাস এর কারণে ও আমাদের মুখে ব্রণ বের হয়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, কোমল জাতীয় পানীয় আর অতিরিক্ত চিনি খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য ভালো না আর স্কিন এর জন্য তো আরই ভালো না। তাই আমাদের বেশি বেশি শাক সবজি ফল মূল খেতে হবে। তৈলাক্ত, চিনি যুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। বেশি বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেগুলা খাবার আমাদের শরীর ঠাণ্ডা রাখে সেগুলো খেতে হবে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খেলে ও মুখে ব্রণ হয়। পানি আমাদের শরীরে পানির অভাব হলে ত্বক নিষ্প্রাণ হয়ে শুকিয়ে যায় এবং ব্রণ এর সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত। আমাদের শরীর ও ভালো থাকবে এবং স্কিন ও ভালো থাকবে। পানি মানে জীবন। তাই পানির তুলনা অপরিহার্য।
ব্রণ কয় প্রকার ও কি কি
ব্রণ অনেক বড় একটা সমস্যা। ব্রণ এর ফলে আমাদের চেহারার সুরত নষ্ট হয়ে যায়। অনেকেই ব্রণ হলে বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আমাদের লুকিয়ে না রেখে সেটার সমাধান করা উচিত। ব্রণের ধরন অনেক রকম এর হয়। ছয় ধরনের ব্রণ আছে যা সম্পর্কে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব নিচে সে নাম গুলো উল্লেখ করা হলো।
ব্ল্যাকহেডস
হোয়াইটহেডস
পুসটিউল
প্যাপউল
সিস্ট
নডিউল
ব্ল্যাকহেডস এগুলা দেখতে কালো দানার মতো। এগুলা ও লোমকূপ বন্ধ করে রাখে কিন্তু এর মুখ খোলা থাকার কারণে ব্ল্যাকহেডস দেখা যায়।
হোয়াইটহেডস এগুলো সাদা দানার মতো বের হয় যা মুখের লোমকূপ বন্ধ থাকার কারণে ত্বকের নিচে থাকে।
পুসটিউল ছোট লালচের মতো তবে মাথায় সাদা বা হলুদ পুঁজের মতো জমে থাকে।
প্যাপউল হচ্ছে ছোট লালচে শক্ত ফুসকুড়ির মতো।
সিস্ট হচ্ছে সবচেয়ে গুরুতর ব্রণ। যা ত্বকের গভীরে পুঁজভর্তি আর ব্যথাযুক্ত হয়ে থাকে। আর এই সিস্ট ব্রণ থেকে ব্রণের দাগ হয়ে থাকে।
নডিউল ত্বকের ভিতরে হয়ে থাকে বড় এবং লাল যা বেদনাদায়ক হয়।
ব্রণ নানা ধরনের হয়ে থাকে যার ফলে আমরা বুঝতে পারি না আমাদের কোন ধরনের ব্রণ হয়ছে। পরে আমরা তার জন্য ভুল ট্রিটমেন্ট করি। তাই আমাদের আগে জানতে হবে আমাদের কি ধরনের ব্রণ তার পর তার ট্রিটমেন্ট করা দরকার।
ব্রণের সমাধানের জন্য কি করা উচিত
ব্রণ দূর করতে হলে সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলতে হবে। খাওয়া দাওয়ার ওপর নজর রাখতে হবে। ত্বক ভালো রাখতে সারাদিন এ অন্তত ২ বার মুখ ধুয়া উচিত। ভালো মানের ফেসওয়াশ ব্যবহার করা দরকার। ত্বকে বার বার হাত না দেওয়া বেশি হাত দিলে জীবাণু সৃষ্টি হয়। বাইরের ধুলা বালি যখন মুখে আসে পরে তখন ও আমাদের মুখে ব্রণ বের হয় তাই বাইরে থেকে আসে ভালো মতো মুখ পরিষ্কার করা উচিত যাতে সব ময়লা দূর হয়ে যায়।
ব্রণ এর সমস্যার আরেক টি ঘরোয়া টোটকা হলো ফিটকিরি। ব্রণ এর ওপর ফিটকিরি আলতো ভাবে ঘষলে ব্রণ এর ফোলা ভাব কমতে শুরু করে। ফিটকিরি জাদুর মতো কাজ করে। ফিটকিরি পানি তে ভালো মতো ভিজিয়ে ব্রণ এর ওপর আলতো ভাবে ঘষতে হবে কিছু ক্ষণের জন্য তারপর নরমাল পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ফিটকিরি চমৎকার একটি টোটকা। ফিটকিরির তুলনা হয় না। যেকোনো কাজে ফিটকিরির দরকার হয়। ঘামাচি হলে সেখানে ফিটকিরি ঘষলে ঘামাচি দূর হয়ে যায়। তাই বলা যায় ফিটকিরির তুলনা অপরিহার্য।
ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল আমাদের ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। এলোভেরা ত্বকে ২০ মিনিট এর জন্য লাগিয়ে রেখে পরে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এতে করে আমাদের ঠান্ডা থাকবে এবং ব্রণ এর দাগ ও ব্রণ কমবে। তাই প্রতিদিন এলোভেরা ব্যবহার করা দরকার। এলোভেরা প্রাকৃতিক উপাদান যা আমাদের ত্বক এর জন্য অনেক উপকারী। এলোভেরা আমাদের ত্বক পরিষ্কার রাখে ও সুস্থ রাখে। এলোভেরার উপকারিতা অপরিসীম।
মধুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। মধু প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর। মধু আমাদের ব্রণের জীবাণু কমায় এবং দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। সামান্য মধু ব্রণ এর ওপরে লাগাতে হবে এবং ১৫-২০ মিনিট পর সে টা ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। আবার মধুর সাথে দারচিনি মিক্স করে লাগালে ও ভালো ফল পাওয়া যায়। আর দাগের জন্য (মধু+লেবুর রস) ব্যবহার করা উচিত। যেখানে যেখানে ব্রণ এর দাগ আছে সেখানে সেখানে মধু+লেবুর রস লাগিয়ে দেওয়া উচিত এবং ২০ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। আবার (মধু+দারুচিনি) মিক্স করে ত্বকে লাগালে ব্রণ কমে যায়। মধুর তুলনা অপরিহার্য। মধু খাওয়ার উপকারিতা যেমন অপরিসীম তেমনি মধুর আমাদের ত্বক, শরীর ও ভালো রাখে। আবার যদি আমাদের ঠোঁট ফাটা থাকে কিংবা কালো থাকে তাহলে (মধু+চিনি) মিক্স করে ঠোঁটে স্ক্রাব করতে হবে সপ্তাহে ২-৩ বার স্ক্রাব করলে ঠোঁট এর কালো দাগ ও দূর হয়ে যায়।
কাঁচা হলুদ আমাদের ত্বক এর জন্য অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদ আমাদের ত্বক এর দাগ কমায় ও ন্যাচারাল গ্লো দেয়। ১ চামচ হলুদ+ গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে তৈরি করে সেটা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে ত্বক উজ্জ্বল ও হবে এবং দাগ ও কমবে। কাঁচা হলুদ এর সাথে আরও অনেক উপকরণ আছে যেগুলা ব্যবহার করা যায়। যেমন (কাঁচা হলুদ+বেসন+গোলাপ জল) মিক্স করে লাগালে ব্রণ এর দাগ হালকা হয়। (কফি+বেসন+হলুদ+পানি) মিক্স করে ত্বকে লাগালে ট্যান দূর হয়। (কাঁচা হলুদ+মধু) মিক্স করে লাগালে ব্রণ এর দাগ হালকা হয়। কাঁচা হলুদ আমাদের অনেক উপকারে আসে। সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। আবার দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিক্স করে থেকে শরীরের ব্যথা কমে এবং কিছু সমস্যা দূর হয়।
নিম পাতা আমাদের ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করে দেয়। নিম পাতা+ এলোভেরা+কাঁচা হলুদ মিক্স করে ব্রণ এর জায়গায় লাগাতে হবে এবং শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি আমাদের ত্বক এর ব্যাকটেরিয়া কমায়। নিম পাতা শুধু ত্বকের জন্যই নয় বরং আমাদের চুল এর জন্য ও উপকারী। নিম পাতা অনেক তিতা হয়ে থাকে যার কারণে সমস্ত রোগ বালাই ছাঁটাই করতে সাহায্য করে। নিম পাতা আমাদের ত্বক কে ভিতর থেকে পরিষ্কার করে সমস্ত রোগ দূর করে। (নিম পাতা+বেসন) মিক্স করে ত্বকে লাগালে সেটি আমাদের অনেক উপকার করে।
টমেটো আমাদের ত্বক এর জন্য অনেক উপকারী। টমেটো তে আছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বক কে উজ্জ্বল করে। আমাদের কে টমেটোর রস নিয়ে মুখে লাগাতে হবে এবং ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে ব্রণ এর দাগ হালকা হতে সাহায্য করে।
বরফ আমাদের ত্বক এর জন্য সেরা। বরফ আমাদের ত্বক এর ফোলা ভাব ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন যদি আমাদের ত্বকে বরফ ঘুষি তাহলে ব্রণ বের ও হবে না।
শসা ত্বক ঠান্ডা রাখতে ও জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। শসার রস মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে এতে করে মুখ ঠান্ডা থাকবে এবং ব্রণ কম বের হবে। গরমের জন্য শসা অনেক উপকারী।
ব্রণ বের হলে হাত দিয়ে না খোঁটানো কারণ এতে ইনফেকশন বারে এবং আর ও ব্রণ এর আশঙ্কা দেখা দেয়। ব্রণ খোটানোর কারণে ব্রণ এর দাগ ও রয়ে যায়। ব্রণ খোটালে আরো বেশি বেশি ব্রণ বের হতে শুরু করে তখন আর এই ব্রণ বের হয়ে থামে না। তাই ব্রণ বের হলে আমাদের কে মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ত্বক নরম কোমল রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত এতে করে ত্বক নরম থাকে। ময়েশ্চারাইজার আমাদের ত্বক কে ভিতর থেকে নরম করতে সাহায্য করে এবং ক্লিন রাখে।
রোদে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সানস্ক্রিন আমাদের ত্বক কে রোদে পুড়া ভাব থেকে বাঁচায়। আমাদের মুখে যদি ব্রণ থাকে আর সেই সময় বাইরে গেলাম আর সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলাম তাহলে আমাদের সেই ব্রণ এর দাগ বসে যাবে। তাই রোদে যাওয়ার আগে বেশি করে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
আমাদের উচিত বেশি তৈলাক্ত ও মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করা। বেশি তৈলাক্ত ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের জন্য আমাদের ত্বকে ব্রণের সৃষ্টি হয়। তৈলাক্ত খাবার আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমাদের পেট খারাপ থাকলে লিভার খারাপ থাকলে ও মুখে ব্রণ এর সমস্যা দেখা দেয়। তাই আমাদের তৈলাক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে ও দূরে থাকা প্রয়োজন।
সবচেয়ে বেস্ট একটা উপায় হচ্ছে সারাদিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করা। পানি আমাদের শরীরের সব সমস্যার সমাধান করে। পানির তুলনা অপরিসীম। আপনি যতই ডাক্তার এর কাছে যান না কেনো ওরা আপনাকে এটাই বলবে যে বেশি বেশি পানি পান করুন এটাই বেস্ট। পানির কোনো তুলনা হয় না। পানি আমাদের শরীরের বেশির ভাগ রোগ কে সমাধান করে তুলে। তাই সারাদিনে বেশি বেশি পানি পান করা উচিত।
তাও যদি ব্রণ ত্বক থেকে না যায় তাহলে তখন ডাক্তার এর পরামর্শ নেওয়া দরকার। কারণ কোনো কিছু নিয়েই অবহেলা করা ঠিক না।
ব্রণ কি আদেও চিরতরে দূর হয়
হ্যাঁ যদি সঠিন নিয়ম অনুসারে চলা যায় তাহলে ব্রণ চিরতরে দূর হবে। ব্রণ নানা কারণে হয়ে থাকে খাওয়া দাওয়ার কারণে, ডাইটেশন এর কারণে, হরমোন পরির্বতন এর জন্য। তাই আমাদের একটা নিয়ম অনুযায়ী জীবন যাপন পরিচালনা করতে হবে যাতে ব্রণ দুর হয়ে যায়।
প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এবং বরফ পুরো মুখে ঘুষতে হবে। এতে করে মুখ ঠান্ডা থাকে এবং ব্রণ বের হয়না। শসার রস এর কিউব বানায়ে ফ্রিজ এ রাখতে হবে এবং সেটা ত্বকে ঘুষতে হবে। প্রতিদিন যদি আমরা ত্বক পরিষ্কার রাখি তাহলে ব্রণ বের হবে না।
আমাদের অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ তৈলাক্ত খাবার আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তৈলাক্ত খাবার গ্রহণের ফলে আমাদের পেট ও লিভার খারাপ হয়ে যায় আর সেই কারণে আমাদের ফেস এ ব্রণ বের হয়। তাই বেশি বেশি শাক সবজি ফলমূল খাওয়া উচিত। শাক সবজি আমাদের পেট, লিভার, কিডনি ভালো রাখে যার ফলে আমাদের শরীর ও সুস্থ থাকে আর মুখে কোনো রকমের কোনো সমস্যা ও হয়না। তাই বেশি বেশি করে শাক সবজি খাওয়া উচিত আর ফল মূল খাওয়া উচিত।
অতিরিক্ত মেকআপ প্রোডাক্ট থেকে দূরে থাকা। বেশি মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে আমাদের ত্বক ভিতর থেকে নষ্ট হয়ে যায় বা ড্যামেজ হয়ে যায়। আর প্রতিদিন মেকআপ ব্যবহার করলে মুখের ব্রণ কমবে না। মেকআপ এর মধ্যে নানা ধরনের কেমিক্যাল থাকে যেগুলা আমাদের স্কিন নষ্ট করে দেই। তাই মেকআপ থেকে দূরে থাকা উচিত।
সারাদিনে অন্তত দুই বার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে ত্বক কোমল রাখার জন্য। আর রোদে বের হওয়ার ১৫ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সানস্ক্রিন আমাদের ত্বক কে রোদে পুড়া ভাব থেকে বাঁচায় এবং স্কিন ড্যামেজ হওয়া থেকে বাঁচায়। তাই সানস্ক্রিন দরকার ই দরকার।
আর সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হচ্ছে পানি খাওয়া বেশি বেশি পানি খাওয়া। প্রতিদিন ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত। পানি পান করার ফলে আমাদের শরীরে নানা ধরনের অসুখ দূর করে দেই। তাই পানি তো ৩-৪ লিটার খাওয়া দরকার। পানি আমাদের শরীরের সমস্ত রোগ বালাই ঠিক করতে সাহায্য করে। বেশি বেশি পানি পান করার ফলে আমাদের পেট, লিভার, কিডনি ভালো থাকে আর যার কারণে আমাদের ত্বক ও উজ্জ্বল করে আর কোনো ধরনের সমস্যা ও দেখা দেই না।
ব্রণের সমাধানে ঘরোয়া উপায়
ব্রণ দূর করার নানা ধরনের উপায় আছে কিন্তু আমার মনে হয় বাইরের কেমিক্যাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করে ব্রণ ঠিক করার চেয়ে ঘরোয়া উপায়ে ব্রণ ঠিক করা উচিত হবে। ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় হচ্ছে ঘরোয়া টোটকা। ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় যা দ্বারা ব্রণ কমানো যায় নিচে তা উল্লেখ করা হলো।
ব্রণ দূর করার জন্য (নিম পাতা+ কাঁচা হলুদ+আলোভেরা) মিক্স করে মুখে ১৫-২০ মিনিটের জন্য ব্যবহার করতে হবে। এতে করে ব্রণ কমবে।
ব্রণ দূর করার আরেক টি উপায় হলো ( কমলার খোসার গুঁড়ো+হলুদ+পানি) এটি আমাদের ত্বকের জন্য অনেক ভালো একটি টোটকা।
ব্রণের দাগের জন্য (বেসন+কাঁচা হলুদ+গোলাপজল+লেবুর রস) মিক্স করে ১৫-২০ মিনিটের জন্য ত্বকে অ্যাপ্লাই করতে হবে দিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে ব্রণের দাগ হালকা কমে।
ত্বকে অতিরিক্ত তেলের কারণে ব্রণ হয় তাই সেই তেল দূর করার জন্য (মুলতানি মাটি+গোলাপজল) মিক্স করে তোলে অ্যাপ্লাই করতে হবে তারপর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
আরেক টি ফেস প্যাক আছে সেটা ত্বক উজ্জ্বল করে এবং পরিষ্কার করে সেই প্যাক টি হলো (বেসন+দই) মিক্স করে ত্বকে লাগাতে হবে এবং শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। তার পর রয়েছে টি ট্রি অয়েল। টি ট্রি অয়েলে নানা রকম গুণ রয়েছে। কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল এর ফোঁটা নারিকেল এর কয়েক ফোঁটা নিয়ে মিক্স করে ব্রণ এর ওপরে লাগাতে হবে। বেশি পরিমাণ টি ট্রি ব্যবহার করা যাবে না।
আলুর রস আমাদের ত্বকের জন্য এত উপকারী বলার বাহিরে। আলু তে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। যা আমাদের ত্বক কে উজ্জ্বল রাখে এবং দাগ মুক্ত রাখে। আলুর রস মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
(মধু+দারুচিনি ) মিক্স করে ত্বকে লাগাতে হবে এবং ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে এতে করে ব্রণ কমে। গোলাপ জল আমাদের ত্বক সতেজ রাখে এবং দাগ হালকা করে। তুলার সাহায্য গোলাপ জল ব্যবহার করতে হবে। রাতে এটি ব্যবহার করলে বেশি ভালো ফল ফল পাওয়া যাবে।
ডিমের সাদা অংশ আমাদের ত্বক টান টান করে এবং দাগ কমাতে সাহায্য করে। ডিমের সাদা অংশ ত্বক এ লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়ার পর ধুয়ে ফেলতে হবে। তার পর রয়েছে নারিকেল তেল। নারিকেল তেলে রয়েছে ভিটামিন ই যা আমাদের ত্বক কে মেরামত করে। রাতে ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণে নারিকেল তেল ব্রণ এর দাগের ওপর লাগাতে হবে।
ব্রণের দাগ কিভাবে দূর করব
ব্রণের দাগ দূর করার জন্য বাইরের কেমিক্যাল প্রোডাক্ট না ব্যবহার করে ঘরোয়া উপায়ে যদি দাগ দূর করা যায় তাহলে সেটা বেস্ট হবে। ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া কয়েকটি সহজ উপায় দিচ্ছি।
(বেসন+হলুদ+গোলাপজল+লেবুর রস)
(মসুরের ডাল+হলুদ+পানি)
(চালেরগুঁড়া+পানি)
(চালেরগুঁড়া+ মসুরের ডাল+পানি)
(চন্দন পাউডার+হলুদ+পানি)
উপরিউক্ত উপায় গুলো আমাদের ব্রণের দাগ কমায়।
শারীরিক মানসিক চাপের কারণে কি ব্রণ হয়
আমরা যখন অতিরিক্ত মানসিক চাপ নি বা শারীরিক চাপ নি তখন আমাদের শরীরের হরমোনাল ইমব্যালেন্স হয় যার কারণেও ব্রণ হয়। বেশি দুশ্চিন্তা করলে নেগেটিভিটি নিয়ে বসে থাকলে ব্রণ দেখা দেয়। আমাদের উচিত বেশি মানসিক ও শারীরিক চাপ না নেওয়া। সুস্থ জীবনযাপন করলে ত্বক ও সুস্থ থাকবে।
হাতের নখ বড় রাখলে কি ব্রণ হয়
হাতের নখ বড় রাখলে তখন সেখানে জীবাণু যুক্ত হয় আর সেই নখ আমাদের স্কিন এ টাচ হলে ব্রণ বের হয়। নখের আলাদাই একটি জীবাণু থাকে যা দ্বারা স্কিনে নানা ধরনের প্রবলেম দেখা দেয়। তাই হাতের নখ বড় রাখা উচিত নয়।
ব্রণের চিকিৎসায় ঘরোয়া টোটকা
ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হইছে উপরে। এমন আরও অনেক টোটকা রয়েছে যা ত্বকের ব্রণের চিকিৎসা হয়। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি একটা বড় গামলায় ঠান্ডা পানিতে মুখ ৪-৫ বার ডুবিয়ে বের করলে সেটা ত্বকের জন্য বেস্ট। ঠান্ডা পানি আমাদের ত্বক কে উজ্জ্বল করে এবং হাইড্রেশন দেই। ঠান্ডা পানি তে ব্রণের ফোলা ভাব কমে কমে ও ব্রণ দ্রুত দূর হয়।
ব্রণ কমানোর জন্য কি কি খাওয়া উচিত
ব্রণ কমানোর জন্য আমাদের বেশি বেশি পানি পান করা উচিত। পানি আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করে এবং শরীর ভালো রাখে। সারা দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করলে আমাদের পেট, লিভার, কিডনি ভালো থাকে যার ফলে আমাদের ত্বক ও ভালো থাকে। তাই বেশি বেশি পানি পান করা উচিত।
তৈলাক্ত, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ এগুলা খাবার আমাদের শরীর ও ত্বক কোনো টার জন্যই ভালো না তাই এগুলা খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত। আমাদের বেশি বেশি শাক সবজি, ফল মূল খাওয়া উচিত। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার আমাদের ত্বক সুস্থ রাখে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত যেমন কমলা,লেবু,আমলকী এগুলা আমাদের ত্বকের জন্য খুব ভালো। ওমেগা সমধ্য খাবার খাওয়া উচিত যেমন মাছ, বাদাম,বীজ ইত্যাদি।
আমাদের উচিত যেসব খাবার এড়িয়ে চলা সেগুলো হলো অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, কোমল জাতীয় পানীয়, অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত দুধজাত খাবার, অতিরিক্ত চকলেট। এগুলা খাবার আমাদের শরীরের জন্য ও ক্ষতিকর এবং ত্বকের জন্য ও ক্ষতিকর।
শেষ কথা
উপরিউক্ত আলোচনায় ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আমি আশা করছি যে আমার দেওয়া উপায় গুলো আমাদের সাহায্য করবে। ঘরোয়া উপায়ে ব্রণ ও ব্রণ এর দাগ কমতে অনেক টা টাইম লাগবে কিন্তু ধৈর্য হারালে চলবে না। প্রতিদি
ন সময় মতো যত্ন নিতে হবে তাহলে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমার দেওয়া আরেক টি সাজেশন হচ্ছে ব্রণ এর জন্য চর্ম রোগের ডাক্তার দেখানো উচিত।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url