শীতে চুলের সমস্যা দূর করুন ৭টি সহজ সমাধানে
শীতকালে চুলের সমস্যায় সবাই ভোগে। এই শীতকালেই যতসব চুলের সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা কিভাবে চুলের সব সমস্যা দূর করবো তা নিয়ে আজকে আলোচনা করা হবে।
আজকের এই আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে ৭টি সহজ উপায়ে আপনি আপনার চুল কে করবেন পুষ্টিকর, সমদ্ধি এবং শাইনি। পুরো আর্টিকেল টি পড়ুন এবং আমি আশা করছি যে এই আর্টিকেল টি পড়ার পর আপনাদের চুলের যত সমস্যা আছে সব দূর হয়ে যাবে। তো চলুন আর দেরি না করে নিচের আসল আলোচনায় যাওয়া যাক।
পোস্ট সূচিপত্রঃ শীতে চুলের সমস্যা দূর করুন ৭টি সহজ সমাধানে
- শীতে চুল কেনো ফ্রিজি বা রুক্ষ হয়ে যায়?
- চুলে খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায়
- চুল কে শাইনি করার উপায়
- চুলের আগা ফেটে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার
- চুলকে লম্বা ও মজবুত করার উপায়
- চুল পড়ে যাওয়ার কারণ এবং সমাধান
- চুলের যত্নে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
- চুলে হিট মেশিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা
- সপ্তাহে কতবার চুলে তেল লাগানো উচিত
- শেষ কথা
শীতে চুল কেনো ফ্রিজি বা রুক্ষ হয়ে যায়?
শীতে আর্দ্রতার অভাবে আমাদের চুল গুলো রুক্ষ হয়ে যায়। আবার আমরা শীতের জন্য গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে থাকি যার কারণেও চুল ফ্রিজি বা রুক্ষ হয়ে যায়। এই রুক্ষ চুলকে সুস্থ করার জন্য আমাদের কাছে আছে কিছু ঘরোয়া সমাধান। এই ঘরোয়া উপায়ে আপনি আপনার রুক্ষ বা ফ্রিজি চুলকে করতে পারবেন শাইনি এবং শিল্ক। তো ঘরোয়া উপায় গুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
- বেশি গরম পানি দিয়ে চুল না ধোয়া
- হালকা উসুম গরম পানিতে চুল ধোয়া উচিত
- সপ্তাহে ২-৩ বার হেয়ার প্যাক লাগানো যেমনঃ ( দই+ মধু)
- আরেকটি প্যাক রয়েছে ( দই+ মধু+ কলা)
- দই আমাদের চুল কে রুক্ষ হওয়া থেকে বাঁচায়
- কলা আমাদের চুলের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং ময়েশ্চারাইজিং করে
- মধু আমাদের চুলকে শাইনি করতে সাহায্য করে
চুলে খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায়
শীতে বেশিরভাগ সবার চুলেই খুশকি হয়ে থাকে। আর এটি খুব বিরক্তিকর একটি ব্যাপার। খুশকি হওয়ার কারণে আমাদের চুলের শাইনি ও নষ্ট হয়ে যায় এবং খুশকি আমাদের চুল নষ্ট করে ফেলে। আজকে আমরা জানবো কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে খুশকি দূর করা যায়।
- খুশকি হলে ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা
- খুশকি থাকা কালীন চুলে তেল না দেওয়া
- খুশকি দূর করার জন্য ( মেথি+ পেঁয়াজ+কালো জিরা+ আলোভেরা) ব্যবহার করা
- সপ্তাহে ২-৩ দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা
- মাসে ১ বার ( অর্গানিক মেহেদী+ মেথি+ আলোভেরা+ ডিম ) ব্যবহার করা
উপরিউক্ত উপায় গুলো আপনি নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার চুলে খুশকি দূর হয়ে যাবে। আর আপনার চুল থাকবে হেলদি।
চুল কে শাইনি করার উপায়
চুল প্রত্যেকটা মানুষের সৌন্দর্য। এই চুল যদি রুক্ষ শুষ্ক এবং শাইনি না থাকে তাহলে দেখতে অতটা ভালো লাগেনা। তাই আমাদেরকে চুলের যত্ন নেওয়া খুব প্রয়োজন। চুলকে শাইনি করার কিছু উপায় সম্পর্কে আমরা এখন জানবো। প্রাকৃতিক উপায় এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে আমরা আমাদের চুলকে সবসময় শাইনি রাখতে পারব। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে চুল কে শাইনি রাখবো।
- নিয়মিত চুল আঁচড়ানো। কারণ নিয়মিত চুল আঁচড়ালে চুলের একটি ব্যায়াম হয়। এতে করে চুল হেলদি থাকে।
- সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন চুলে তেল দেওয়া।
- শ্যাম্পু ব্যবহার করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা।
- কন্ডিশনার আমাদের চুলকে সিল্ক এবং শাইনি রাখে।
- সপ্তাহে এক থেকে দুইবার হেয়ার প্যাক ইউজ করা। যেমন ঃ (মেথি+অ্যালোভেরা+টক দই)
- মাসে একবার হেয়ার প্যাক লাগানো উচিত। যেমন ঃ (অর্গানিক মেহেন্দি+গাছের এলোভেরা+পেঁয়াজ+ডিম+ চাপাতি) ইত্যাদি।
চুলের আগা ফেটে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার
চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে চুলের আগা ফেটে যায়। হিট মেশিন যেমনঃ হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটার, কার্লি মেশিন ব্যবহার করার ফলে আমাদের চুলের আগা ফেটে যায়। এগুলো মেশিন আমাদের চুলের আর্দ্রতা নষ্ট করে ফেলে। আমাদের উচিত এগুলো মেশিন না ব্যবহার করা। প্রাকৃতিক উপায়ে আমাদের চুলের যত্ন নেওয়া। তুই জেনে নেয়া যাক কিভাবে চুলের আগা ফাটা দূর করবেন এর প্রতিকার কি।
- তিন মাস পর পর চুলের আগা কাটা। এর ফলে চুল দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে এবং আগা ফাটা বন্ধ করে।
- হিট মেশিন আমাদের চুলে ব্যবহার না করা এগুলো থেকে বিরত থাকা।
- চুলের শ্যাম্পু ব্যবহার করার পর ডিপ কন্ডিশনার ব্যবহার করা।
- সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হেয়ার প্যাক লাগানো উচিত।
- মাসেও একবার হেয়ার প্যাক লাগানো উচিত।
- সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন চুলে তেল দেওয়া এবং ম্যাসাজ করা।
- চুলে বেশি গরম পানি ব্যবহার না করা।
- রাত্রে চুল ছেড়ে না ঘুমানো। চুলকে সুন্দর করে বেঁধে তারপর ঘুমানো উচিত।
- নিয়মিত দুই থেকে তিন বেলা চুল আঁচড়ানো উচিত। করে চুল সুস্থ থাকে।
চুলকে লম্বা ও মজবুত করার উপায়
লম্বা ও মজবুত করতে চান তাহলে আগে চুলের যত্ন নেওয়া শিখতে হবে। চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে চুল লম্বা ও মজবুত হয় না। চুলকে লম্বা ও মজবুত করার ঘরোয়া অনেক উপায় রয়েছে যা থেকে আপনি আপনার চুলকে লম্বা করতে পারবেন। জেনে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো।
- চুলের যত্নে নিয়মিত হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা।
- অর্গানিক মেহেদী আমাদের চুলের জন্য খুব উপকার করে। তাই মেহেন্দি আমাদের চুলে ব্যবহার করা।
- চুলে নিয়মিত তেল লাগানো উচিত।
- সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা এবং তারপর কন্ডিশনার লাগানো উচিত।
- ভালো শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। যেগুলোর দামি শ্যাম্পু রয়েছে সেগুলো আমাদের চুলকে নষ্ট করে ফেলে। তাই যে কোন ভালো শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। যেমন ঃ ডাভ শ্যাম্পু, সানসিল্ক শ্যাম্পু এগুলো ভালো শ্যাম্পু এগুলো ব্যবহারে তেমন কোন ক্ষতি হয় না।
- চুল সব সময় ছেড়ে না রাখা। বেশিরভাগ সময় যদি বেঁধে রাখা উচিত। কারণ চুল ছেড়ে রাখার কারণে অনেক সময় চুল লম্বা হতে চায় না।
চুল পড়ে যাওয়ার কারণ এবং সমাধান
চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে চুল পড়ে যায়। চুল আমাদের মানুষের একটি সৌন্দর্য। তাই সবসময় চুলের যত্ন নেওয়া উচিত। আর শীতকালীন সময়ের চুলের আরো বেশি যত নেয়া উচিত। কারণ শীতে চুল তার নিজের আদ্রতা হারিয়ে ফেলে। যার কারণে চুল পড়ে যায়। কয়েকটি উপায় বলবো এখন যা যারা আপনি আপনার চুল পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পারেন।
- শীতকালীন সময় চুলের অত্যন্ত গরম পানি ব্যবহার না করা।
- দরকার হলে উষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলে নিয়মিত তেল মাসাজ করা।
- কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাতে চুল সিল্ক থাকে।
- ঘরোয়া উপায়ে হেয়ার প্যাক লাগানো। উপরিউক্ত আলোচনায় আমি অনেকগুলো হেয়ার প্যাক এর কথা বলেছি সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
- পেঁয়াজ আমাদের চুলের হেয়ার ফল কমাতে সাহায্য করে। তাই পেঁয়াজ তার সাথে কিছু একটা এড করে চুলে ব্যবহার করতে পারেন।
- গোসল করার পর সাথে সাথে ভেজা চুল না আঁচড়ানো
উপরিউক্ত যেগুলো উপায়গুলো বললাম আশা করছি সেগুলো উপায়ে আপনাদের হেয়ার ফল অনেকটা কমবে। আমি সব সময় আপনাদের যেটা সঠিক ব্যবহার সেটাই বলি। এগুলো ব্যবহারের ফলে হেয়ার ফল অনেকটা কমে যায়। আমিও এগুলো আমার হেয়ার ফলের জন্য ব্যবহার করে থাকি এবং আমার হেয়ার ফল অনেকটাই কমেছে। তাই আশা করছি আপনাদের হেয়ার ফল কমে যাবে।
চুলের যত্নে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
চুলের যত্নে যেমন প্রাকৃতিক উপায় বা ঘরোয়া উপায় প্রয়োজন। তেমনি চুলের যত্নে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও ততটাই প্রয়োজন। আমাদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ফলেও আমাদের চুল অনেকটা গ্রো করে এবং চুল সব সময় হেলদি থাকে। আজকে এই আলোচনায় আমি আপনাদের এমন কিছু খাবারের কথা বলব যা আপনাদের চুলকে হেলদি রাখবে। তো জেনে নেয়া যাক।
- চুলের যত্নে নেওয়ার জন্য প্রথমে যেটা দরকার সেটি হচ্ছে বেশি করে পানি পান করা। পানি আমাদের শরীরকে হাইড্রেট রাখে। তে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে আমাদের চুল হেলদি থাকে।
- ভিটামিন সি, ভিটামিন ই যুক্ত খাবার গ্রহণ করা।
- বেশি করে ফলমূল খাওয়া।
- শাকসবজি নিয়মিত খাওয়া উচিত। যেমন ঃ ব্রকলি, গাজর, পালং শাক ইত্যাদি আর যত শাকসবজি আছে তা খাওয়া।
- কাঠবাদাম খাওয়া উচিত।
- জাঙ্ক যুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা।
- মাছ, মাংস, ডিম জাতীয় আমিষ খাওয়া।
- পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।
হিট মেশিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা
চুলে সবসময় প্রাকৃতিক উপায় যত্ন নেওয়া উচিত। হিট মেশিন যেমন ঃ হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটার মেশিন, কার্লি মেশিন থেকে বিরত থাকা। এগুলো মেশিন আমাদের চুলের আদ্রতা নষ্ট করে ফেললে এবং চুল রুক্ষ হয়ে যায়। এবং চুলের আগা ফেটে যায়। হিট মেশিন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সব সময় লো হিটে ব্যবহার করা উচিত। সবসময়ই হিট মেশিন ব্যবহার না করা এতে করে চুল নষ্ট হয়ে যায়। মাসে একবার ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু খুব সাবধানতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।
সপ্তাহে কতবার চুলে তেল লাগানো উচিত
চুলের যত্নে তেল ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল ছাড়া চুলের যত্ন নেওয়া কখনই সম্ভব না। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার তেল লাগানো উচিত। শুধু তেল লাগিয়ে রেখে দিলে হবে না। তেল লাগানোর পর চুলে আলতো ম্যাসাজ করা উচিত। আর চুলে তেল লাগানোর সাথে সাথে চুল আঁচড়ানো যাবে না। এতে করে চুল বেশি উঠে যায়। চুলের তেল দেওয়ার অন্তত ১০-২০ মিনিট পর চুল আঁচড়ানো উচিত। ভালো মানের তেল ব্যবহার করা প্রয়োজন যেমনঃ নারিকেল তেল যা খুব অর্গানিক তেল এবং চুলের জন্য ও খুব ভালো।
শেষ কথা
উপরিউক্ত সব আলোচনায় আমি আপনাদের চুলের সব সমস্যার সমাধান সম্পর্কে বলেছি। শীতে চুলের সমস্যা দূর করুন ৭টি সহজ সমাধানে। এই ৭টি উপায় সম্পর্কে উপরিউক্ত আলোচনায় বিস্তারিত বলা হয়েছে। আমি আশা করছি যে আমার দেওয়া সমাধান গুলো আপনাদের কিছুটা হলেও সাহায্য করবে চুলের সমস্যা দূর করতে। যদি আমার এই পোস্টটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমার সাথে থাকবেন এবং পাশে থাকবেন।
চুল সুস্থ রাখুন এবং শাইনি করুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url